Tuesday, September 7, 2010

পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি জাতীয়তাবাদ

তিন

পশ্চিমবঙ্গীয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে আলোচনায় যে অবধারিত প্রশ্নটি উঠবে, সেটি হল খামখা এই বিষয়ে সময় নষ্ট করা কেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের আদৌ কোনও প্রয়োজন নেই, আমাদের এক বন্ধু সম্প্রতি ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন। আমাদের শিক্ষাবিস্তার, আমাদের রেনেসাঁস, আমাদের বামপন্থা (ভালগার বা আঁতেল) আমাদের শিখিয়েছে আন্তর্জাতিক হতে। বু্দ্ধদেব বসু একবার বলেছিলেন সাংস্কৃতিকভাবে বাংলা ইউরোপের একটি অংশ। অতিশয়োক্তি, কিন্তু এ থেকে আমাদের পশ্চিমমুখি মনন ধরা পড়ে (এবং সেই পশ্চিমমুখি চিন্তন ও ভাবান্দোলনের সুফল কেউ অস্বীকার করে না)। অনেকটা সেকারণে উচ্চবর্নের বাঙালি হিন্দু নিজের আইডেন্টিটি নিয়ে কি করবে, খাবে না মাথায় দেবে, ঠিক নিশ্চিত নয়। এবং সাধারণভাবে সে বাংলায় প্রচুর ইংরেজি শব্দের মিশেলে স্বস্তিবোধ করে। এ জন্য আমাদের কিছু সমস্যাও হয়। বাংলাদেশের কেউ কেউ আমাদের বাংরেজি দেখে ক্ষেপে গিয়ে ভাবেন চালবাজি করছি, আসলে যে এভাবেই আমাদের শিক্ষিতদের সিংহভাগ কথা বলেন, তা তারা জানেন না।

প্রসঙ্গে ফেরা যাক। বাংলাদেশি বাঙালিদের জাতীয়তাবাদ আমাদের বিবেচ্য নয়। ইতিহাসের ঘটনাবহুল নিয়মে উচ্চবর্নের বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলমান এলিট বাংলাদেশকে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। পূর্ব অংশটি হয় পূর্ব পাকিস্তান, পশ্চিম অংশটি পরিচয় পায় পশ্চিমবঙ্গ বলে। এরপর পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ নামটা দখল করে নেয়, এবং এই দেশটির ভিত্তিই হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ। পশ্চিমবঙ্গের ব্যাপারটা কিরকম হয়েছে, দেখা যাক। এবং সলতে পাকাতে হবে আবার।

বাঙালি হিন্দু উচ্চবর্ণ। বৌদ্ধধর্মকে, এবং বাঙালির স্বকীয়তাকে নষ্ট করে ক্ষমতায় আসা সেনবংশের ধামাধারি। উত্তরভারত থেকে আসা, অন্তত কিংবদন্তি সেই উৎসকেই উদযাপন করে। সঙ্গে করে আনা সনাতনধর্মের যাবতীয় বর্ণভেদ। যেহেতু ব্রাহ্মণ ও কায়স্থ বাঙালিই ছিলেন না, প্রাথমিকভাবে বাংলার প্রতি, বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতির প্রতি তাদের অবজ্ঞা ও দেবভাষার প্রতি তাদের ভক্তি থাকাই স্বাভাবিক। বাংলা বহুদিন আর্যাবর্ত্মের কাছে ব্রাত্য ছিল। এখানে এলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হত। বৌধায়ন বলেছিলেন বাংলায় অসুরভাষা বলা হয়। এ থেকে অনেকে অনুমান করেন, বাংলায় দীর্ঘনাসা নর্ডিক আর্যরা আসেননি, যেমনটা উত্তরভারতে হয়েছিল। হয়ত এখানে গোলমুণ্ড অ্যালপাইন আর্যরা এসেছিলেন, যারা বেদ মানতেন না (সুর বনাম অসুরের যে দ্বন্দ্ব পুরাণে দেখি)। এমনও হতে পারে আর্যরা পুর্বভূমি স্মৃতি সঙ্গে করে আনেন, এবং অন্যান্য অবৈদিক আর্যদের সঙ্গে তাদের যে দীর্ঘ লড়াই, যার ফলশ্রুতিতে সম্ভবত তারা পূর্ব ইউরোপ/এশিয়া মাইনর ছাড়েন ( একটা আকর্ষণীয় বিষয় হল, পূর্ব ইউরোপ ও রাশিয়ায় অনেকগুলি নদীর নামে -দনু রুট পাওয়া যায়, দানিয়ুব, দনীপার, দন, দনীয়েস্টার। খুব সম্ভবত দনুজ-দানব নামক অবৈদিক আর্য ট্রাইবটির কাছে পরাস্ত হয়ে বৈদিক আর্যরা এদিকপানে আসেন), তা তাদের ভবিষ্যৎ শত্রুদের নামকরণেও ছাপ ফেলে। তাই ভারতে এসে হয়ত তারা দ্রাবিড় ও অস্ট্রিক জাতিগুলিকে অসুর, দানব রাক্ষস ইত্যাদি মধুর সম্বোধনে ভূষিত করেন। কাজেই বাংলার ভাষাকে ঠিক কেন অসুরভাষা বলা হয়েছিল, জোর দিয়ে বলা যায় না। এটা ঠিক যে বাংলা ও গুজরাটের উচ্চবর্ণের মধ্যে কিছু শারীরিক সাদৃশ্য আছে, এবং উভয় জায়গার ভাষাতে ও-কারের বাহুল্য। অনেক ঐতিহাসিক বলেন এই দুই প্রদেশে প্রথম যে আর্যরা আসেন, তারা অবৈদিক অ্যালপাইন। ঐতিহাসিক রমাপ্রসাদ চন্দ মনে করেন যে বাঙালি উচ্চবর্নের মধ্যে বৈদ্য নামক বর্ণটি ওই অ্যালপাইন আর্যদের অবদান। তবে ব্যপারটা কনজেকচার। অন্তত গুজরাটিদের মধ্যে বৈদ্য নামক কোনও বর্ন এটি গ্রাহ্য হত, তবে আমার গুজরাটি বন্ধুদের জিগ্যেস করে জেনেছি যে এমন কোনও বর্ন সেখানে নেই। বরং এটা বেশি যুক্তিগ্রাহ্য যে বৈদ্যরা ছিলেন বৌদ্ধ শ্রবণ, স্বাভাবিকভাবেই ডাক্তারির কাজ করতেন, এবং সনাতনধর্মের পুনর্জাগরণে এরা তার অংশীদার হতে রাজি হয়ে যান, ও ব্রাহ্মণ কায়স্থের পরেই জায়গা পান (বর্তমানে এরা ব্রাহ্মণের পরেই আছেন, এমনটা কিন্তু চিরকাল ছিল না)।

অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গ পুণ্ড্র সুহ্ম, এই পাঁচটি পূর্বভারতীয় জনজাতির কথা পুরাণ বলছে। নামগুলি অস্ট্রিক, ঐতিহাসিকরা বলছেন। পুরাণ এই নামগুলিকে দ্রাবিড় মহাসম্রাট বলির উত্তরাধিকারিদের সঙ্গে যুক্ত করে। অর্থাৎ আমাদের উৎস অনার্য। অ্যালপাইন আর্যরা যদি এসেও থাকেন, বৈদিক নর্ডিক আর্যদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায় ছিল এমন ভাবা ভুল হবে না (তাই দ্রাবিড় ও অস্ট্রিকদের সঙ্গে তাদের সখ্যতা না গড়ে উঠলে সেটাই হবে আশ্চর্য ব্যাপার), তাই বাংলা এবং পূর্বভারতে যে শক্তিসমূহ মাথা তোলেন, যাদের বীরত্বের কথা শুনে আলেকজ়ান্ডার ভারত-অভিযান পরিত্যাগ করবেন, যারা বেদবিরোধী, নিরীশ্বর, প্রায় প্রোটো-কমিউনিস্টিক বৌদ্ধধর্মকে বরণ করে নেবেন ১৬০০ বছরের জন্য (ভৌগলিকভাবে যে অঞ্চলকে আজ বাংলা বলি, সেখানে সবথেকে বেশি সময় থেকেছে বৌদ্ধধর্ম। সনাতন ধর্ম ও ইসলাম মেরেকেটে হাজার বছর পার করেছে কি করেনি), তারা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বিপুল শক্তিশালি একটি polity ছিলেন। আজ শিডিউল্ড কাস্ট হিসেবে গণ্য হওয়া পৌণ্ড্ররা আমাদের শাসক ছিলেন, আমাদের প্রতিরোধের ঐতিহ্য ছিল, আগে ডোম বাগে ডোম ঘোড়াডোম সাজে (আগডুম বাগডুম বলে যে ছড়াটিকে আমরা চিনি, এবং যা আজ আক্ষরিক অর্থেই আমাদের কাছে আগডুম বাগডুম, কোনও কিছুর মানে না বুঝলে বা gibberish মনে হলে আমরা বলি আগডুম বাগডুম) নামক প্রবাদের ডোম বা চাঁড়ালরা আজ নমশূদ্র বলে পরিচিত, তারা আমাদের বীর পূর্বজ ছিলেন। আমি এই লেখায় কিছুটা বাষ্পনয়নে দুহাত তুলে আমার প্রাক্তন সেনাপতি ও সম্রাটদের জয়ধ্বনি দিচ্ছি ও অভিবাদন জানাচ্ছি। গ্রহণ করুন। আমি আপনাদেরই উৎস বলে মানি, আমি আপনাদের আনুগত্য স্বীকার করি। আমি মনে করি আপনারাই আমার জাতিকে গড়ে তুলেছিলেন। সেনরা এসে যখন বর্ণভিত্তিক সনাতনী ব্যবস্থা চালু করলেন, তখন নমশূদ্রদের সবথেকে নিম্নস্তরে নামানো হয়েছিল। ব্যাপারটা আশ্চর্যের, নীহাররঞ্জন রায় বলছেন। তবে এও আন্দাজ করেছেন যে এর মূলে কোনও গূঢ় ঐতিহাসিক সত্য লুকিয়ে আছে। আমার ব্যাখ্যা ওপরে দিলাম। এইসময় একইভাবে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী সোনার বেনেদেরও কাস্ট হায়ারার্কিতে নিচে নামানো হয়।

চর্যায় যে বাংলাভাষার জয়যাত্রা, সেন আমলে তা থমকে যাবে, এবং সংস্কৃতচর্চা শুরু হবে। এবং বাঙালি ব্রাহ্মণ কায়স্থরা তখন বাংলায় সনাতনধর্মের পুনর্জাগরণ ঘটাবেন, সমস্ত বাঙালিসমাজকে জাতপাতের নিগড়ে বাঁধবেন।। এরা ক্ষমতাকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার, ক্ষমতার এজেন্ট হওয়ার বিদ্যায় নিজেদের ভালমত গড়েপিটে নেবেন। শুরু হবে হাজার বছরের জাতপাতভিত্তিক বাঙালি বর্ণহিন্দু সমাজ, যার সমাজপতিদের মুখ পশ্চিমে ফেরানো, যাদের নিজস্ব মাতৃভাষা থাকবে না, ক্ষমতার ভাষাই হবে তাদের ভাষা। এরপর ইসলাম রাজধর্ম হবে, এবং পারসীক হবে রাজভাষা। অতি দক্ষতায় বাঙালি উচ্চবর্ণ, বিশেষ করে কায়স্থরা পারসীক শিখে নেবেন, এবং আবার ক্ষমতাকেন্দ্রের কাছাকাছি চলে আসবেন, ক্ষমতার দালাল হবেন। যদিও এই সময়েই একটা দেশজ, লোকায়ত সংস্কৃতির পোষণের চেষ্টা চলবে, মূলত সনাতনধর্মকে বাঁচানোর তাগিদে।
চারটি বেদে শূদ্র ও নারীদের অনধিকার ছিল। পঞ্চমবেদ বলে কথিত মহাভারত ছিল সেযুগের জনপ্রিয়তম কাব্য, মহাভারত যে শুরু হয়েছিল ব্যালাড হিসেবে তার প্রচুর প্রমাণ আছে। তা গীত হিসেবে ছিল বিনোদনের এক অপূর্ব মাধ্যম (একই কথা রামায়ণ সম্পর্কেও বলা চলে)। তাই মহাভারতকে শূদ্রের জন্য, নারীর জন্য নিষিদ্ধ করা যায়নি, স্রেফ অসম্ভব ছিল বলে। এই জনপ্রিয় গাথার নায়ক কৃষ্ণকে বহু আগেই বিষ্ণুর অবতার বলে সনাতনধর্ম আত্মীকরণ করেছিল, যদিও মহাভারত আর্য অনার্যের মিশ্রণের এক চমৎকার উদাহরণ এবং চরিত্রগুলির সকলেরই প্রায় জন্ম সম্বন্ধীয় গোলযোগ আছে, কেউই খাঁটি আর্য নন। কৃষ্ণ ও কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ (ব্যাসদেব) জন্মগতভাবেই অনার্য, একজন যাদব অন্যজন দাসবংশজাত।
এখানে কথা প্রসঙ্গে বলি, সমস্ত সীমাবদ্ধতা সত্বেও, আর্যাবর্ত্ম ও সনাতন ধর্ম আমাদের আংশিক অতীত, যেভাবে প্রাচীন গ্রীস ও রোম ইউরোপের উৎস। একে কোনও বালখিল্য প্রগতিবাদিতায় যেন নস্যাৎ না করা হয়। ইতিহাস অস্বীকার করলে শুধু পুঁজির সুবিধা, শাসকের সুবিধা, এমনকি হিন্দু মৌলবাদিরও সুবিধা, যেন ভুলে না যাই।

সে যাই হোক, এই দুই মহাকাব্যের নায়ককে ভগবান বানিয়ে আর্যাবর্ত্মে (বাংলাকে এই সময় থেকে আর্যাবর্ত্মের উপনিবেশ হিসেবেই ধরতে হবে) এক লোকায়ত ধর্ম প্রচলনের চেষ্টা মধ্যযুগে দেখা যায়। বেদ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থগুলি ছিল উচ্চবর্ণের এক্সক্লুসিভ সম্পত্তি, কাজেই তা এইসময় থেকে মোটামুটি বেকার হয়ে পড়ে। এইসময় শুরু হয় ভক্তি আন্দোলন, বাংলায় যা জাতপাতের সমস্যা কিছুটা মেটাবে, এবং polityর গণতন্ত্রীকরণ ঘটানোর দিকে এক নিশ্চিত পদক্ষেপ নেবে। বৌদ্ধধর্মের অবলুপ্তিতে যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল তা যেন বাংলার বৈষ্ণব আন্দোলন সারাতে চেয়েছিল, এবং চৈতন্যকে মনে হয় মধ্যযুগের বুদ্ধ। জ্ঞানের জায়গা নিয়েছিল ভক্তি, কিন্তু লোকায়তজনের ক্ষমতায়ন ছিল উভয়েরই ধ্রুব লক্ষ্য।
বাংলার অন্যান্য গাথাগুলি এসময় লিপিবদ্ধ হতে শুরু করে মঙ্গলকাব্য হিসেবে, লোকায়ত ও ব্রাত্য দেবদেবীরা চিরকালই অন্ত্যজদের জীবনের মূলের কাছাকাছি ছুঁয়ে থাকেন, এবার তারা সনাতনধর্মের প্যান্থিয়নে চলে আসবেন। এই সময় বাংলার সনাতনধর্ম এক নবরূপ ধারন করে, এবং একে কোনওমতেই সেই কিংবদন্তির আদিশূরের বর্ণভেদমূলক ব্রাহ্মণ্য ধর্ম বললে চলবে না। বৌদ্ধধর্মের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য এই হিন্দুধর্মে মিশে থাকবে, যেভাবে ব্রিটিশ সমালোচক রেমন্ড উইলিয়ামস দেখিয়েছিলেন residual cultural forms গুলি dominant cultural forms এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে। আজ বাংলায় যে হিন্দুধর্ম আমরা জানি, বোষ্টম-বাউল-সহজিয়া-শাক্ত মিশ্রিত এই ধর্মের লোকায়ত চেহারাটি কিন্তু সনাতন ধর্ম আদপেই নয়।

কিন্তু সমাজ শাসন করছেন যারা, তারা ক্ষমতাকেন্দ্রেই থাকবেন। সৈয়দ মুজতবা আলি চমৎকার দেখিয়েছিলেন যে বাংলা ভাষা পারসীক সিনট্যাক্স অনুযায়ী লিখিত হয়ে আসছে, সংস্কৃত সিনট্যাক্স অনুযায়ী নয়। কায়স্থরাই সেযুগে পেশাদার লিপিকার ছিলেন, যাকে বলে scribe। ব্রাহ্মণরাও মুসলিম শাসকদের চাকুরিগ্রহণে খুব পিছিয়ে ছিলেন না, তবে কায়স্থদের মত এত উন্নতি করে উঠতে পারেননি। কায়স্থরা পারসীক শিখতেন প্রায় নিজের মাতৃভাষার মত, আজ যেভাবে বাঙালি বর্নহিন্দু ইংরেজি শেখে এবং বলে প্রায় মাতৃভাষার মত (এবং এও বলা হয় যে বঙ্কিমের সময় থেকেই বাংলা গদ্য ইংরেজি সিনট্যাক্সের অনুসারী হয়ে ওঠে)। আমরা comprador, আমাদের ভাষাতেও তার ছাপ রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি জাতীয়তাবাদ

দুই

একবার কলকাতায় গিয়েছি একটা কাজে। তখন আমদের বসবাস দিল্লিতেই। হাতে পয়সাকড়ি যা আছে, তাতে দু-তিনদিনের বেশি চলবে না। ক্রেডিট কার্ডের কোনও গল্প নেই। তখনও আমি দিল্লিতে অধ্যাপনার চাকরি পাইনি, ইন্টারভিউ দিয়ে চলেছি। সবাই করুণার হাসি হেসে বলছেন, চেনাজানা ছাড়া কি আর জেনেরাল ক্যাটিগরিতে চাকরি হয়! স্ত্রী ফোনে বলছেন দিল্লিতে ফিরে যেতে, কাজ মাথায় থাকুক। কিন্তু আমার দুটো একটা বিষয়ে বেশ বাঙালপনা আছে। যদিও অর্ধাঙ্গিনী বলেন যে আমি ঘটিফায়েড বাঙাল। সেটা খাদ্যাভাসে।

আমি রবীন্দ্র সদনের সিঁড়ির এককোনায় বসে ছিলাম। সঙ্গে কোনও বন্ধু নেই। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এই চত্বরটা খুব প্রিয় ছিল। সবদিনের মতই সেদিন কিছু একটা অনুষ্ঠান চলছে। কিছু বিশেষ অনুষ্ঠান, কারণ একের পর এক ধুতি পাঞ্জাবি ও জমকালো শাড়ি পরিহিত অভিজাত পঞ্চাশোর্ধ বাঙালি নারী-পুরুষ এসে গাড়ি থেকে নামছিলেন, এবং উদ্যোক্তারা সমাদর করে তাদের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছিল। কোনও অল্পবয়সী অভ্যাগতকে দেখিনি। আমার মনে হচ্ছিল, যে এটাই খুব সম্ভবত বাঙালিয়ানা। এক্সক্লুসিভ, নাক-উঁচু, উচ্চ-ভ্রূ, মেনোপজ়াল, এবং সংস্কৃতিপরায়ণ। এর সঙ্গে সাধারণ বাঙালির, জীবনযুদ্ধে নামা বাঙালির, যুবা-বাঙালির যোগ কোথায়?

বাঙালি বললে বহুদিন ধরে শুধু বাঙালি হিন্দু বোঝানো হয়েছে, আজও পশ্চিমবঙ্গের অনেক স্বল্পশিক্ষিত মানুষ এইভাবে বাঙালি শব্দটা ব্যবহার করেন। আমরা বাঙালি এবং ওরা মুসলমান। আর বাঙালি হিন্দু বললে অবশ্যই বাঙালি ব্রাহ্মণ বৈদ্য কায়স্থ। আমাদের দেশভাগ হবে না তো কাদের হবে!

বাঙালি জাতীয়তাবাদ কি? সাধারণ বাঙালির সঙ্গে এর সম্পর্ক কি? বাঙালি জাতীয়তাবাদকে কি জ্যাঠা জাতীয়তাবাদ বলে যায়, অর্থাৎ এ শুধু বিভিন্ন ক্ষেত্রের জ্যেষ্ঠদের একচেটিয়া? স্টার আনন্দের প্যানেল আলোচনায় যারা স্টুডিও আলো করে বসে থাকেন, তাঁরা কি আমাদের জাতির অভিভাবক? বাঙালি জাতীয়তাবাদ মানে কি অবাঙালি বা বিদেশিরা কোনও বাঙালিকে সাফল্যের স্বীকৃতি দিলে তাই নিয়ে খবরের কাগজ ও নিউজ় চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজ়? একজন লিখেছিলেন, বাঙালির শুধু সৌরভ গাঙ্গুলি ও অমর্ত্য সেন, দুটি বই ল্যাজ মোর নাই রে! যেমন কিছুদিন আগে আনন্দবাজারে খবর হল যে বাঙালি বিজ্ঞানি আমেরিকার জন্য যুদ্ধবিমান বানিয়েছেন। যেমন সেরা বাঙালির পুরস্কার দেওয়ার জন্য আ.বা.প. সিঙ্গাপুর, দিল্লি, বম্বে ও অ্যামেরিকা থেকে বাঙালি খুঁজে আনে। প্রশ্ন হল, এই হ্যাংলামি ও আদেখলেপনা কি বাঙালি জাতীয়তাবাদ? বিদেশ-বিভুঁইয়ে দু-একটি বাঙালির সাফল্যে ছাগলের তিননম্বর ছানার মত লম্ফ দেওয়া কি বাঙালি জাতীয়তাবাদ? এবং সর্বোপরি, এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি কেন হল, যে বাঙালির জীবনে বামফ্রন্ট হল ভিত্তি আর আনন্দবাজার হল ভবিষ্যৎ?

হাজার বছর ধরে বাঙালি জাতি শাসিত হচ্ছে comprador শ্রেণির দ্বারা। বৌদ্ধধর্মের বিলুপ্তির পরে যে দুটি ধর্ম আমাদের গ্রাস করেছে, সনাতন ধর্ম ও ইসলাম, দুটিই পশ্চিম থেকে আগত। বৌদ্ধধর্ম আমাদের মননের খুব কাছাকাছি ছিল, ভৌগলিক দিক থেকেও সেই নৈকট্য খুব প্রকট, কারণ এটি ছিল পূর্বভারতের ধর্ম। সনাতন ধর্মের জাতপাত আমাদের কুৎসিত অভিশাপ। আর পূর্ববঙ্গে প্রচারিত ইসলামের গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িকতা, ভিন ধর্মের প্রতি নোংরা বিদ্বেষ এবং ভিনধর্মীকে নিকেশ করে পূণ্যার্জন এসবের কথা যত কম বলা যায় ততই ভাল।
আমাদের সমাজ যাঁরা শাসন করছেন, গত হাজার বছর ধরে করে আসছেন, তাঁরা যথাক্রমে সনাতন ধর্ম ও ইসলামের অনুমোদিত দালাল শ্রেণি। এটা বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রধান দুর্বলতা। এই সমস্যা, যেমন ধরুন, দ্রাবিড় জাতীয়তাবাদের হয়নি। কেন হয়নি সে প্রসঙ্গে একটু পরে আসছি।

বিষয়টা অবশ্য এমন একদেশদর্শী নয়। বাঙালি উচ্চবর্ণ সবসময় দালালি করেননি। ভক্তি আন্দোলন এই সনাতন ধর্মী নিপীড়নকে কিছুটা স্তিমিত করেছিল। আমি চৈতন্যের কথা বলছি। আচারভ্রষ্ট, এই অভিযোগ এখানকার উচ্চবর্ণের বিরুদ্ধে বহুবার উঠেছে। বাঙালি ব্রাহ্মণকে উত্তরভারত ঠিক ব্রাহ্মণ বলে মানেও নি কখনও। তার কারণ অনেকগুলি। আমাদের উচ্চারণ, খাদ্যাভ্যাস, রক্তে প্রবল ভেজাল (বস্তুত বাঙালি উচ্চবর্ণের অনেকের গায়ের রঙ ঘোর কালো, ওদিকে বর্ণ কথাটার মূল অর্থই ছিল গাত্রবর্ণ। বাঙালি উচ্চবর্ণ নৃবিদ্যা অনুসারে অস্ট্রিক, মোঙ্গল, এবং দ্রাবিড় রক্তের অনেক বেশি কাছাকাছি, সেটা আমরা যারা উত্তরভারতে থাকি, ভালোরকম বুঝি)। আর সীমিতভাবে হিন্দু উচ্চবর্নের মধ্যে একটি রেনেসাঁস, রিফর্মেশন ও এনলাইটেনমেন্ট হয়েছিল ঊনবিংশ শতাব্দিতে, সেটা নস্যাৎ করা উচিত নয়।

ইসলামের ইতিহাস আমি খুব বেশি জানি না, তবে লালন ফকির আছেন। যদিও তিনি আসলে হিন্দু ছিলেন, এবং সনাতন ধর্মের ছুঁৎমার্গের সমস্যায় পড়ে কিভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তা আমাদের জানা। বাঙালি মুসলমানরা অধিকাংশই ধর্মান্তরিত বৌদ্ধ বা হিন্দু, এবং এই ধর্মান্তরকরণ তরবারির জোরে কিছুটা হয়েছে এটা সত্যি। ইসলামি শাসকরা ছ'শো বছর বাংলার অধিকারি ছিলেন এবং অধুনা বাংলাদেশ (যার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম) ইসলামি মৌলবাদিদের খানিকটা দখলে। কাজেই এমন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ধর্মান্তরকরণ মূলত হয়েছে সনাতনধর্মের জাতপাতের সমস্যায়। সৈয়দ মুজতবা আলি বলেছিলেন, পূর্ববঙ্গে ইসলাম এসেছিল সাম্যের বার্তা নিয়ে, নাবিকদের মাধ্যমে, আর পশ্চিমবঙ্গে তা ছিল পাঠান-মোঘল শাসকের রক্তচক্ষু। তাই এমন আশ্চর্য কাণ্ড দেখতে পাওয়া যায়। বাকি ভারতে ইসলাম ছড়িয়েছে একভাবে, বাংলায় অন্যভাবে। ইসলাম ভারতের পশ্চিমে থাকল, যা তার সাম্রাজ্য বিস্তারের itinerary তেই পড়ে। বাংলায় এসে সেটি পালটে গেল। পশ্চিম নয়, পূর্ব ইসলামে আস্থা জানাল। যদিও প্রাতিষ্ঠানিক ইসলাম সেই সাম্যপরায়ণ প্রাক্তন বৌদ্ধদের খুব শিগগিরি গ্রাস করে নিয়ে এক মনোলিথিক ধাঁচায় পুরে দিতে দেরি করবেনা।

বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান উচ্চবর্ণ, ব্রাহ্মণ ও কায়স্থ, দুটিই এসেছে উত্তরভারত থেকে। কিংবদন্তি, রাজা আদিশূর পাঁচটি ব্রাহ্মণ ও পাঁচটি কায়স্থ আনিয়েছিলেন। আহা, সেই দত্ত কারও ভৃত্য নয় গল্পটি জেনে দত্তদের প্রতি আমার বেশ পক্ষপাত জন্মে যায়। যদিও অনেক বাঙালি আজও কায়স্থরা যে উত্তরভারতীয় তা ঠিক জানেন না। অমিতাভ বচ্চন একজন কায়স্থ। ওড়িশাতেও কায়স্থরা একটি প্রধান, আধিপত্যময় জাত এবং সেখানে এরা করণ বলে পরিচিত। পট্টনায়করা এই জাতের অন্তর্গত। এরা সিভিল সার্ভেন্ট ও কেরাণির কাজ করতেন, কাজেই সরকারের কাজে অপরিহার্য। বাঙালি বৈদ্যরা একটু অন্যরকম কেস, এ বিষয়ে আলাদাভাবে কিছু লিখতে চেষ্টা করছি, তাই এখন আর কিছু লিখলাম না। বাঙালি নিম্নবর্ণের মধ্যে নমশূদ্ররা একটি ভীষণ আকর্ষণীয় ইতিহাস বহন করেন, এবং সে ব্যাপারে আমি খুবই আগ্রহী ও কিঞ্চিত পড়াশোনা করছি, এবং তাঁদের বিষয়ে একটি লেখায় হাত দিতে চাই, তাই ও ব্যাপারেও আর কিছু লিখলাম না।

একটা বড় অংশের নিম্নবর্গীয় বাঙালিরা ইসলাম গ্রহণ করায়, উচ্চবর্নের বিরুদ্ধে, সনাতন ধর্মীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে যেভাবে দ্রাবিড় আন্দোলন গড়ে উঠতে পেরেছিল, সে সম্ভাবনা বাংলায় দেখা দেয়নি। কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বাংলায় এস সি ফেডারেশন যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল, এর নেতারা মুসলিম লিগের সঙ্গে আঁতাতবদ্ধ হয়ে পাকিস্তানের দাবীকে সমর্থন করেছিলেন। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল স্বাধীন পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রীও হন। এরপরের ইতিহাস অত্যন্ত ট্র্যাজিক। তিনি ১৯৫০ সালে প্রাণ বাঁচাতে ভারতে পালিয়ে আসেন, এবং কলকাতার ঠাকুরপুকুর অঞ্চলের একটি বস্তিতে ৫৬ সালে মারা যান। বাঙালি হিন্দু নিম্নবর্নের পাকিস্তানের দাবীকে সমর্থনের জন্য দুয়েকটি হিন্দুপ্রধান জেলা পূর্ব পাকিস্তানে চলে যায়, কাজেই উচ্চবর্গীয় নেতারা যোগেন্দ্রকে ক্ষমা করবেন না, জানা কথা। দেশভাগের ট্র্যাজেডি আসলে বাঙালি হিন্দু নিম্নবর্ণের ট্র্যাজেডি। এবং সেই যে এস সি ফেডারেশনের শিড়দাঁড়া ভেঙ্গে যায়, আজ পর্যন্ত নিম্নবর্ণরা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে (বাংলাদেশের কথা ছেড়েই দিলাম, সেখানে হিন্দুরা ক্রমশ দেশত্যাগ করছে) ব্রাত্য হয়েই আছেন, বাকি ভারতে যেখানে দলিতদের (অন্তত তাদের একটা অংশের) ক্ষমতায়ন হয়েছে। বাঙালি দলিত পূর্বে অর্ধচন্দ্র খেয়েছেন, আর পশ্চিমে মরিচঝাঁপি পেয়েছেন।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রধান সমস্যা এই। এদিকে ভদ্রলোক শাসিত, ওদিকে মুসলিম এলিট শাসিত (একজন ঐতিহাসিক লিখেছিলেন, এদিকে ব্রাবৈকা, ওদিকে শেসৈকা। অর্থাৎ এদিকে ব্রাহ্মণ বৈদ্য কায়স্থ, ওদিকে শেখ সৈয়দ কাজি)। পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থি আন্দোলন, যেটি আসলে কাঁঠালের আমসত্ব থেকে গেছে, এই ভদ্রলোক ডমিনেশন আর স্তালিনবাদি ভালগার মার্ক্সবাদের যুগলবন্দীতে (একে রামে রক্ষা নেই, সুগ্রীব দোসর) একের পর এক বিপর্যয় ঘটিয়ে এখন খুব সঙ্গত কারণেই গঙ্গাপ্রাপ্তির অপেক্ষায়।

Monday, September 6, 2010

পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি জাতীয়তাবাদ



"Nationalism", remarks an African character in Raymond Williams's novel Second Generation (London, 1964), "is in this sense like class. To have it, and to feel it, is the only way to end it. If you fail to claim it, or give it up too soon, you will merely be cheated, by other classes nd other nations." Nationalism, like class, would thus seem to involve an impossible irony. It is sometimes forgotten that social class, for Karl Marx at least, is itself a form of alienation, canceling the particularity of an individual life into collective anonymity. Where Marx differs from the commonplace liberal view of such matters is in his belief that to undo this alienation you had to go, not around class, but somehow all the way through it and out the other side. To wish class or nation away, to seek to live sheer irreducible difference now in the manner of some contemporary post-structuralist theory, is to play straight into the hands of the oppressor.

Terry Eagleton 'Nationalism: Irony and Commitment' (from 'Nationalism, Colonialism and Literature')



এক


যে প্রধানতম কারণগুলি পশ্চিমবঙ্গীয় বাঙালিদের পরিচয়-সঙ্কট সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে ভালগার
মার্ক্সবাদি চিন্তাধারা অন্যতম, আর চিত্তাকর্ষকভাবে এর সঙ্গে সুন্দর তান ধরেছে বুর্জোয়া উদারনীতি। সংক্ষেপে বললে একদিক থেকে বামপন্থি, অন্যদিক থেকে দক্ষিণপন্থি, এই দুই সাঁড়াশি আক্রমণে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বহুদিন থেকেই পশ্চিমবঙ্গে কোনঠাসা। কিন্তু সমস্যা সেখানেই শেষ হয় না, এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের কোনঠাসা হওয়ার কারণ অনেকগুলি।

একসময় হাওড়া স্টেশনে দেওয়াললেখন দেখা গিয়েছিল, আশি শতাংশ বাঙালির চাকরি চাই। আমরা বাঙালি (পশ্চিমবঙ্গে এই নামে একটি অতিক্ষুদ্র, তীব্র দক্ষিণপন্থি, আনন্দমার্গি প্রভাবিত মৌলবাদি সংগঠন আছে)। কিছুদিন পরে দেখা গেল, কোনও রসিকজন নিচে ছোট্ট করে লিখে দিয়েছেন, বাকি কুড়ি শতাংশ কি হাত মারিবে? আমরাও বাঙালি। এরপর বিষম খেয়ে আমরা বাঙালি অবশ্য পুরো একশো শতাংশ বাঙালির চাকরি দাবি করা শুরু করে দেয়! এ থেকে আমাদের আরেকটি ট্র্যাজেডি সামনে আসে। চাকুরিপ্রিয়, বঙ্কিম বলেছিলেন।

বাঙালিয়ানার আরও একটি সমস্যা এখানে দৃশ্যমান। উচ্চবর্গ এই ডিসকোর্সকে কখনও প্রাধান্য দেননি, ফলে বাঙালিয়ানা কি, সেটা নিয়ে কি করব, আদৌ সেটা খায় না মাথায় দেয় তা নিয়ে শিক্ষিত মহলে তীব্র বিভ্রান্তি ছিল। এবং যে অল্পশিক্ষিত মানুষেরা সম্পূর্ণ দিশাহীনভাবে খুঁজে যাচ্ছিলেন নিজের পরিচয়, তাকে লালন ও রক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন, তাঁরা বিদ্রূপের পাত্র হিসেবে পরিচিত হন।

আমার জন্মের পর বাঙালিয়ানা শব্দটি ব্যবহৃত হতেই খুব কম দেখেছি। ১৯৯৯ সাল নাগাদ প্রথম এই বাঙালিয়ানা শব্দটি হঠাৎ আজকাল বলে একটি বাংলা কাগজ ব্যবহার করা শুরু করে। আজকাল বরাবরই সিপিএম এর ভেতরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য গোষ্ঠীর মুখপত্র ছিল, কিন্তু নব্বই এর দশকে অনেক সিপিএম বিরোধী, গণতন্ত্রী ও বিকল্প বামপন্থায় বিশ্বাসি মানুষ এই কাগজটি পড়তেন। তখনও আজকাল এমন সিপিএম এর ধামাধরা হয়ে যায়নি। অনেকে আজ আর বিশ্বাস করবেন না, একসময় আজকাল মমতা ব্যানার্জিকে অনেক বেশি কভারেজ দিত এবং গণতন্ত্র রক্ষায় তার লড়াইয়ের সমর্থক ছিল। কবীর সুমনের (তখন সুমন চট্টোপাধ্যায়) আত্মজীবনী 'হয়ে ওঠা গান' প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল শারদীয়া আজকালে।

সেসময় কলকাতার ক্রিকেট জ়ার জগমোহন ডালমিয়া ছিলেন জ্যোতি বসু ও সুভাষ চক্রবর্তির ঘনিষ্ঠ। এদিকে বুদ্ধদেব গোষ্ঠী তখন থেকেই তাকে সরাতে চাইছিল (এই সঙ্ঘর্ষ ২০০৬-৭ এ আবার মাথাচাড়া দেবে)। ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারির ঠিক আগে আজকাল সম্পাদক অশোক দাশগুপ্ত কিছু লেখা লিখতে শুরু করেন, কলকাতায় বাঙালির অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদাত্ত ডাক দিয়ে (মূল উদ্দেশ্য ছিল মাড়োয়ারি ডালমিয়াকে সরানো)। বাঙালিয়ানা বলে একটা শব্দ বহুল ব্যবহৃত হতে শুরু করে। মূলত আজকালের উদ্যোগে নবজাগরণ নামে একটা সংগঠন শুরু হয়, তাতে সুনীল গাঙ্গুলিও জড়িত ছিলেন। সুনীল সেই সময় আনন্দবাজার কাগজে একটার পর একটা উত্তর-সম্পাদকীয় লেখেন, একটি প্রধান দাবি ছিল কলকাতায় সমস্ত সাইনবোর্ডে বাংলা বাধ্যতামূলক করতে হবে। সুনীল কানাডার ফরাসীভাষি কুইবেক প্রদেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন যে সেখানে যেমন ফরাসি ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার জন্য ভাষা পুলিস তৈরি হয়েছে, কলকাতায় তাই করতে হবে (সুনীলকে এ জন্য করসেবক এবং শিবসেনা বলে গাল দিয়েছিলেন একজন মাইনর লেখিকা অনিতা অগ্নিহোত্রি, যিনি আনন্দবাজারের খুব প্রিয়পাত্র ছিলেন, এখনও আছেন কিনা জানিনা)। তা যদিও হয়নি, কিন্তু এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে তারা কিছু অভিযান করেন, কলকাতা পুরসভা এরপরে এই মর্মে আইন তৈরি করেন। আজ ধর্মতলা অঞ্চলে সমস্ত দোকানের সাইনবোর্ডে আপনি বাংলা দেখতে পাবেন, ছোট করে এককোনায় লেখা থাকে অবশ্য, তবু তো থাকে। এখনকার প্রজন্মের জানা উচিত যে আমাদের ছোটবেলায় আমরা কিন্তু কলকাতার কেন্দ্রস্থলে বাংলা লেখা খুঁজেই পেতাম না। এই সময় আরো একটি দাবি সামনে আসেঃ পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্কুলে (যে বোর্ডেরই হোক না কেন) বাংলা বাধ্যতামূলক করতে হবে। সেটা এখনও হয়নি।

এই সময়েই ক্যালকাটা নাম পালটে দিয়ে করা হয় কলকাতা। বিধানসভায় সর্বসম্মত প্রস্তাব নেওয়া হয়, ওয়েস্ট বেঙ্গল থেকে রাজ্যের নাম হবে বাংলা। যদিও তা আর কেন্দ্রের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় নি (ভারতে রাজ্যের নাম পালটাতে গেলে কেন্দ্রের অনুমোদন লাগে), এবং সেটি এখন হিমঘরে চলে গেছে। কিন্তু ইতিহাস পালটানো যায় না। বাঙালি বিধায়করা চেয়েছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা প্রস্তাব পাশ করেছিল, এটা ইতিহাসে থেকে যাবে, এবং আমাদের এ ব্যাখ্যাও খুঁজতে হবে যে কেন শেষ পর্যন্ত এই বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে গেল।

বাংলায় লেখা গ্রিটিংস কার্ড এই সময়ে বাজারে আসতে শুরু করে। বাংলা ব্যান্ডের জয়যাত্রা এইসময় শুরু হয়। অল্পবয়সিরা বাংলা গান শুনতে শুরু করেছিলেন নচিকেতা, অঞ্জন দত্ত, শিলাজিৎদের সময় থেকেই, নব্বই দশকের প্রথমভাগে। সুমনকে নিয়ে একশ্রেণির গুরুঠাকুর-গুরুজনেরা এমন গম্ভীর আচরণ দেখাতে থাকেন, এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার টেস্টে (হিন্দু স্কুলে) সুমনের গান (সূর্য বলল ইস) ভাবসম্প্রসারণে চলে আসে, ফলে আমরা যারা কিশোরবয়সী ছিলাম, কিছুটা ভেবড়ে যাই। সেইবয়সে সুমনের প্রতি কিছুটা বীতরাগ চলে আসে, কারন মনে হচ্ছিল সুমন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। এত ভারি কথা নিশ্চয়ই মনে হয়নি, স্রেফ ভেবেছিলাম যে সুমনের বাংলা ভাষা বড় বেশি সিলেবাস-গন্ধী।

আমরা যাদের প্রথম মানবজীবন স্মৃতির উন্মোচন হচ্ছে আশির দশকের শেষভাগে, আমরা জানি তখন বাংলা সংস্কৃতির কি দারুন বন্ধ্যাদশা চলছে। ৮৬ সালের হোপ এইট্টি সিক্স, যেখানে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে জ্যোতিবাবু সুভাষের পাশে বসে বলিউডি নাচগান দেখেছিলেন, তার থেকে একটা নার্সারি ননসেন্স রাইম শুরু হয়, 'শ্রীদেবীর কোলে/জ্যোতিবাবু দোলে'। তখন আমি প্রাথমিক স্কুলে। হেমন্ত মারা যান ৮৮ কি ৮৯ সালে (ঠিক মনে নেই), তখন কাগজে লেখা হয়েছিল, হেমন্ত মরে গিয়েও বাঙালি জাতিকে ঋণী করে গেলেন, নয়ত এবছর পুজোপ্যান্ডেলে হাওয়া হাওয়া আর ওয়ে ওয়ের যুগলবন্দী বাঙালির কানের দফারফা করে দিত (তখনকার দুটি ব্যাপক হিট বলিউডি গান)। বলা বাহুল্য যে সেবছর সব প্যান্ডেলের লাউডস্পিকার শুধুই হেমন্তময় থেকেছিল। এই উষর জমিতে সুমন বর্ষা হয়ে নেমেছিলেন, সেকথা আজ বোঝা যায়। বাংলা সিনেমায় যে কাজ করেছিলেন সত্যজিত, বাংলা কবিতায় যে কাজ করেছিলেন জীবনানন্দ, বাংলা গানে সেই কাজ করেছেন সুমন। তিনি ভগীরথ। আধুনিক বাংলা কবিতা ও আধুনিক বাংলা গানের মধ্যে যে বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছিল, তিনি তা ঘোচালেন। সুমনের থেকেই আমাদের পালটে যাওয়ার সময় হিসেব করতে হবে। অনেকে বলেন বাংলায় আরেকটা রেনেসাঁস হতে চলেছে। জানিনা। যদি হয়, তার শুরু সুমন।

কেন এই পরিবর্তন হয় গত কুড়ি বছরে (সুমনের তোমাকে চাই প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে), তার পেছনে অনেকগুলি কারন নিহিত আছে। যদি বাঙালি জাতীয়তাবাদ বা বাঙালিয়ানা ব্যাপারটাকে বুঝতে চাই, আমাদের যাকে বলে স্টক-টেকিং করা দরকার। কিন্তু প্রদীপ জ্বালানোর আগে সলতে পাকা্তে হবে।

শুরুটা করা যাক বাঙালি জাতির শুরু থেকে। পাল আমলে আমাদের উৎস, মোটামুটি সবাই একমত হবেন। এর আগে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা আমাদেরই পূর্বপুরুষ, তবে ঠিক বাংলা ভাষা বলতে যা বুঝি তা ছিল না। বাংলায় তখন বৌদ্ধ ধর্ম। পূর্ববঙ্গে যারা নাবিকের কাজ করতেন, তাদের একটা বড় অংশ নবম দশম শতাব্দিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন, কারণ ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরের বাণিজ্য তখন ইসলামের নিয়ন্ত্রণে। এদিকে বাকি ভারতে তখন সনাতন ধর্মের পুনরুত্থান হচ্ছে। এমন সময় বাংলায় কর্নাটক থেকে আসা গোঁড়া সনাতনধর্মী সেনরা রাজা হলেন, এবং যা করে গেলেন, তার সুদুরপ্রসারি ফল থেকে গেল। এরা বাংলায় হিন্দুধর্ম আনলেন। আসলে এই হিন্দু কথাটা তো মুসলিমরা ভারতে আসার আগে ব্যবহৃত হয়নি, এই ধর্মের পরিচয় ছিল সনাতন ধর্ম বা ব্রাহ্মণ্য ধর্ম। সেই সনাতনধর্ম প্রথমবারের জন্য বাংলায় জাঁকিয়ে বসল। এর আগে গৌড়ের প্রথম স্বাধীন রাজা বলে যিনি পরিচিত, শশাঙ্ক (নিজেই ব্রাহ্মণ ছিলেন, ইতিহাস বলে), তিনিও চেষ্টা করেছিলেন বাংলায় সনাতনধর্ম প্রচলনের, এবং বলা হয়, বাংলায় প্রথম ব্রাহ্মণ তিনিই আনিয়েছিলেন উত্তরভারত থেকে। কিংবদন্তি এই যে গয়ার বোধিবৃক্ষ উপড়ে ফেলার পাপে শশাঙ্ক দুরারোগ্য কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হন, এবং তখন এই ব্রাহ্মণদের আনা হল যাগ-যজ্ঞ করার জন্য। আরো একটা কি কারণে যেন এইসময় পূর্ব ভারতে বেশ কিছু ব্রাহ্মণ চলে আসেন আর্যাবর্ত্ম থেকে, সেটা আমার ঠিক মনে নেই।
এর অনেকপরে যখন সেনরা কনৌজ থেকে পাঁচজন ব্রাহ্মণ আনলেন, তারা এসে দেখেন যে সেই শশাঙ্ক আনিত ব্রাহ্মণরা বেশ গোকুলে বেড়ে এখন সংখ্যায় সাতশ। তবে তাদের আর বিন্দুমাত্র বামনাই নেই, বাংলায় এসে একদম প্রাকৃতজন হয়ে গেছেন। এদের সপ্তশতী বলা হয়।
সেন আমলে বাংলায় প্রথমবারের জন্য সনাতন ধর্ম আসে। বর্ণভেদও এল। বৌদ্ধরা জাতিপ্রথা মানতেন না, বাংলায় মূলত পেশা-ভিত্তিক অনেকগুলি শ্রেণী ছিল। এবার তাদের সঙ্করবর্ণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে শূদ্রত্বের বিভিন্ন ধাপে বিন্যস্ত করা হয়।

মনে রাখতে হবে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ একটি আধুনিক চিন্তা। এই ইমাজিন্ড কমিউনিটি কয়েকটি বিশেষ আর্থ সামাজিক কারণ ছাড়া গড়ে ওঠে না। কাজেই সেন আমলে যখন বাঙালিরা ভেঙেচুরে যাচ্ছেন, তখন তাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব ছিলই না, যে এর ফলে তাদের জাতি হিসেবে আগামি হাজার বছরের জন্য মেরুদণ্ড ভাঙা হল। আজ অনেকে একদেশদর্শীভাবে এর জন্য শুধু বিজাতীয় সেনবংশকে দায়ী করেন। ওরা অবাঙালি ছিলেন, কিন্তু শুধু সেটাই আমাদের দুর্দশার কারণ নয়। শশাঙ্ক তো বাংলারই সামন্তরাজা, অর্থাৎ বাঙালিই ছিলেন বলা যায়, কিন্তু তিনিও তো চেষ্টা করলেন সনাতনধর্মের প্রচলনের। গোটা ভারতে যখন বৌদ্ধধর্মের কণ্ঠরোধ হচ্ছে, সনাতনধর্মের জয়পতাকা উড়ছে, শঙ্করাচার্য ব্রাহ্মণ্যধর্মকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই আবহে বাংলায় অন্যকিছু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কি? বিশেষত আমাদের বাণিজ্যের অবস্থা তখন খুবই করুণ, পাল আমলের মুদ্রা দেখলেই বোঝা যায়। সেনরা তো স্রেফ কড়ি দিয়ে কাজ চালিয়ে দিলেন। বাংলার ও গোটা ভারতের বৌদ্ধদের সবথেকে বড় শক্তি ছিল শ্রেষ্ঠিদের সমর্থন, একটা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। সেই শ্রেণিটি দুর্বল হয়ে পড়ছেন, কারণ ইসলামের হাতে সাগর বাণিজ্য এবং পুরো পশ্চিম এশিয়া চলে গেছে। এমন অবস্থায় রাজাদের বয়ে গেছে বৌদ্ধদের প্রতি বিশেষ পক্ষপাত দেখাতে। আর বাংলার যা আর্থিক দুরবস্থা ছিল, তাতে এখানে সনাতনধর্মের পুনরুত্থান থেকে স্বতন্ত্র কিছু হওয়া সম্ভব ছিল বলে মনে হয় না। যে কারণে বৌদ্ধধর্মের পতন হল, সেই কারণেই কিন্তু খুব শিগগিরি ভারতেও ইসলামের পত্তন হবে এবং ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় দের হাত থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা বেরিয়ে যাবে। ইতিহাসের আয়রনি। ওরা যখন মহাউৎসাহে সনাতনধর্মের প্রচলন করছেন, ও বৌদ্ধধর্মের উচ্ছেদ করছেন, ওরা জানতেন না, এই ক্ষমতা বেশিদিন টিকবে না। কিন্তু এই অল্পসময়টায় ওরা যা করে গেলেন, তা ভয়ানক। বাংলায় ছত্রিশ জাতের সম্মিলনে এক হায়ারার্কি শুরু হল, যা মোটেই ইয়ার্কি নয়।
কৃষি নাকি আমাদের ভিত্তি, আর শিল্প ভবিষ্যত। অন্তত উন্নততর বামফ্রন্টের তাই বক্তব্য। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি আর ভবিষ্যত কি কে জানে!

Sunday, March 7, 2010

the profile content that introduced me between 2009 and 2010

Am a specialist in Marxist theory, am radical, but unorthodox...and the more I have a look at the fake Marxists (like cpm in India) or the history of communist party controlled states worldwide, or the crude, half-literate, philistinic and very aptly named vulgar Marxists (like most naxals of India), the more I realize that there is a serious problem with the world communist movement which needs to be diagnosed, and that is our first and foremost task...

Welcome to my profile. This is Tamal Dasgupta. Assistant Professor of English at a Delhi University college and researcher in Marxist literary theory.

Oh, and by the way, though I am an academician, I never had a godfather or a godmother, I was never a sycophant and I didn't have to butter my way up to this profession (in fact I always have an uncanny tendency of striking up fights with the big, the ugly and the powerful). Anyone who knows that to what extent academics suffer from nexus, nepotism and nasty favoritism wil understand the meaning of this achievement.

I hav been blessed with a wife who shares the same kind of values, and inspite of refusing to align herself all sorts of power nexus which manifest academics, she too has entered academics in her own rights, without any backdoor recommendations.

We pity those who became lapdogs and sold their souls dirt-cheap to buy a recommendation and got an mphil or a lectureship or some soaps in Kolkata.

Hi everybody. Tamal Dasgupta and Mousumi Biswas Dasgupta made it out on their own. In the capital city of India.


Mousumi,my wife who is also an Asst. Professor and that too of English at another Delhi University college, doesn't have a separate Orkut account..All her friends may please contact her on this account

Friday, April 17, 2009

The Immortal Writer

Negative capability of a writer, so celebrated by romantic poets like keats doesnt actually mean that the author doesnt hav an opinion. or for that matter, dialogism and polyphony in modern novel, conceptualized by the Russian critic Bakhtin do not imply that the author is unopinionated and voiceless in a text...

What can be a stronger stand than choosing to author a text? The writer's urge to write something is itself a very strong opinion...

Take Herbert by Nabarun Bhattacharya. Herbert, the eponymous protagonist is a semi-retarded simpleton who claims to communicate with the dead and is eventually hounded out by the Rationalists Association. After he commits suicide, when his body is about to be cremated, an explosion takes place... he was being cremated alongwith his old bed and it comes out that there were dangerous explosives beneath his bedding, which were kept there long ago by a Naxal relative of Herbert. A stronger critique of enlightenment and bourgeios reason hasn't ever been written in Bengali language... In any oppressive society, traditional wisdom is the justification of oppression... and how easily the fool becomes an inadvertent rebel, and how tragic is his rebellion...

The author has a crusade to fight... well, all writers worth their salt do that... they resist hegemony. The basic idea of creative writing is to defamiliarize... ever wondered why all craftless writers appear monotonous? because they align with hegemony and in that process surrender the basic literariness of a text....

so yes, the witer didn't die, no matter what Roland Barthes and Jacques Derrida and their Indian counterparts said...and the author still has a voice in his text...its just that now she lets the reader think, and doesn't do the ex-gratia thinking on behalf of the reader...

Wednesday, January 7, 2009

graffiti on th walls of rain
thatz the older profile name which we retained for no less than two and a half years.
As 2009 makes us embark on a new journey, the old becomes history.

My Older Orkut Profile

Tamal Dasgupta
is..
an elaborate planner with a very lamentable record of implementation..
a cynic who tries to convince others and himself about possibilities...
a hard core Bengali who is settling to spend the rest of his life in the cow belt...
a lover of uncertainty principle, quantam physics and relativity,who barely managed to save his skin in highschool physics...
a committed husband who was unfortunately always perceived to be a flirt in his class...
a passionate, amused and indulging observer of this great flux called humanity and yet one who can never observe the colour of the shirt you are wearing, not because he is colour blind, but because he is actually an absent-minded observer...
a PhD researcher in literary theory and also a lecturer and often getting exhausted of both..
well,also an occasional poet in private...
Some time ago he discovered(May 2, 20071:45pm) that he's cleared UGC-NET and is awarded a JRF,Junior Research Fellowship, that is. A trivial & rather unnecessary info is that on that very date & time he finds that he's cleared the Waste (I have a sinking feeling that I have got the spelling wrong) Bengal school service commission as well...
One who had the choice of joining between Bamangachi High School and Amity University
I was a day passenger at Kutb Minar at the time of my first job in Delhi, and now I cross Yamuna daily (not by swimming, silly). everyday, I pass by Hauz Khas, Safdarjang, Rashtrapati Bhavan, India Gate, Lal Quilla, places which are exotic for the tourists and quotidian for me